কোন নবীর কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল? হাদিসের ভিত্তিতে সত্য উন্মোচন

কোন নবীর কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল এ ব্যাপারে কুরআনে বা হাদিসে কোনো তথ্য নেই। অধিকন্তু কোনো নবী কুষ্ঠ রোগী ছিলেন বলটা আল্লাহর নবীর সাথে বেয়াদবি। আল্লাহ তায়াল তাঁর নবীদের প্রেরণ করেছিলেন সকল মানুষের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় হিসাবে। সেখানে কোনো নবী কুষ্ঠ রোগী হলে মানুষ তাকে অনুসরণ না করে, দূরে সরে যাবে। এটা নবীগণের নবুওয়্যাহ পরিপন্থী। তাই আপনি কোন নবীর কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল এটা নিয়ে সন্ধান করা থেকে রিবত থাকবেন। কেননা এই তথ্যটি জানার মধ্যে আপনার জন্য কোনো উপকার নেই।

কোনো নবীর ‍কুষ্ঠ রোগ হয়নি । প্রমাণ ও হাদিস

রাসুলুুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

 « مَا بَعَثَ الله نَبِيًّا إِلاَّ حَسَنَ الْوَجْهِ حَسَنَ الصَّوْتِ وَإِنَّ نَبِيَّكُم أَحسَنُهُمْ وَجْهًا وَأَحْسَنُهُمْ صَوْتًا » رواه التِّرميذي فالأنبياء ﻻ تصيبهم اﻷمراض المنفِّرَةُ كالبَرَصِ و خُروج الدُّودِ، فغير صحيح أنّ سيِّدنا أيُّوب خرج منه الدُّود وغير صحيح أنّه كان يأخذ الدُّود ويقول كلي ممّا رزقك اللّه ، فمن قال ذلك فقد كذّب الدِّين.

অনুবাদ: আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবীকে সুন্দর চেহারা ও সুললিত কণ্ঠ দিয়ে প্রেরণ করেছেন। আর তোমাদের নবী তাদের সকলের চেয়ে সুন্দর চেহারা ও কণ্ঠের অধিকারী। (তিরিমিযি)

কাজেই কোনো নবীকে মানুষ ঘৃণা করে এমন কোনো রোগ আক্রান্ত করেনি, যেমন কুষ্ঠ রোগ, পোকা বের হওয়া ইত্যাদি। তাই আইয়ুব নবীর শরীর থেকে পোকা বের হত বা তাকে পোকা আক্রান্ত করেছি এ কথা বলা সঠিক নয়। যে ব্যক্তি এ কথা বলবে সে দীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে।

নবীগণের রোগ হতে পারে কী?

হ্যা, নবীগণের রোগ হতে পারে। কেননা নবীগণ মানুষ ছিলেন। তাই তারা মানুষ যে সকল বিপদ ও রোগে আক্রান্ত হয় সেসব তাদেরকেও আক্রান্ত করতে পারে। এ ব্যাপারে মুসলিমদের ইজমা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأْتِيَكُمْ بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ 

অনুবাদ: তাদের রসুলগণ তাদের বললেন, আমরা তো কেবল তোমার মতই মানুষ। তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে অনুগ্রহ করেন। আল্লাহ তায়াল ইচ্ছা ব্যতীত প্রমাণ উপস্থিত করা আমাদের কাজ নয়। আর বিশ্বাসীদের উচিত, কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করা। সুরা ইবরাহিম : আয়াত – ১১)

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া বলেন,

والأنبياء يجوز عليهم المرض والجوع والنسيان ونحو ذلك؛ بالإجماع.” انتهى من”الرد على البكري” (1/ 306).

অনুবাদ: নবীগণের উপর রোগ, ক্ষুদা, স্মৃতিভ্রম ইত্যাদি হতে পারে এ ব্যাপরে ঐক্যমত রয়েছে। ( আররাদ্দু আলাল বুকরা : ১/৩০৬)

কোন নবীর কুষ্ঠ রোগ ও সঠিক অভিমত

কোনো নবীর কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল বলে আমার কুরআন ও হাদিস থেকে জানতে পারিনি। বিশেষ করে আইয়ুব আলাইহিস সালামের কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু সঠিক কথা হচ্ছে আল্লাহ তায়াল এই প্রিয় নবী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এটা সম্পূর্ণ মনগড়া কথা। এ কথা পক্ষে কুরআন ও হাদিসে গ্রহণযোগ্য কোনো ইভিডেন্স নেই। আইয়ুব আলাইহিস সালামের রোগ সংক্রান্ত আয়াতগুলোর আলোচনায় মুফাস্সিরিনি কেরাম বলেন,

أن ظاهر القرآن الكريم يدل على أن ابتلاء الله عز وجل نبيه أيوب عليه السلام لم يكن على وجه العقوبة على ذنب أو مخالفة، وإنما كان لحكمة يعلمها سبحانه وتعالى، لعل منها أن يرفعه بصبره الدرجات العلى، وينال به المقام السامي إلى يوم الدين.

অনুবাদ: কুরআনের আয়াতগুলোর সুস্পষ্ট মর্ম এ কথা প্রমাণ করে যে, আইয়ুব আলাইহিস সালামের রোগ কোনো পাপ বা অবাধ্যতার শাস্তি হিসাবে ছিল না। এটা ছিলো প্রজ্ঞা, যার আসল রহস্য জানেন কেবল আল্লাহ তায়ালা। এটা হতে পারে যে ধৈর্যের পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর স্থানকে আরো উন্নত করেছেন। যা তিনি পরকালে লাভ করবেন। ( ইসলামওয়ে )

Leave a Comment