ইয়া মুমিতু” ( يا مُمِيتُ) মূলত আরবি ভাষার এক বিশিষ্ট উক্তি, যা আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম বা গুণান্বিত শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় — “আল-মুমিতু” (al-Mumītُ) অর্থ “মৃত্যু দানকারী” বা “মৃত্যু ক্রিয়াকারী”। Jagonews24 Facebook+2
এই নামটি বুঝিয়ে দেয় যে মৃত্যু-জাগরণের নিয়ন্ত্রণ, জীবনের শেষ আপনারে বাদে, সবই আল্লাহর হাতে।
🕋 ‘ইয়া মুমিতু’ অর্থ কী? — শব্দের উৎস ও ভাষাগত বিশ্লেষণ
“ইয়া মুমিতু” (يَا مُـمِيتُ) হলো আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম “আল-মুমিত” (ٱلْمُمِيتُ)-এর আহ্বানমূলক রূপ।
এর অর্থ — “হে মৃত্যু দানকারী”, “হে প্রাণনাশকারী”, বা “হে জীবন সমাপ্তকারী”।
🔹 মূল শব্দ:
“موت” (মাওত) — যার অর্থ মৃত্যু বা জীবনের অবসান। এই শব্দ থেকে উদ্ভূত “مُمِيت” (মুমিত) অর্থ যিনি মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু সৃষ্টি করেন।
🔹 ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (Sarf ও Nahu অনুযায়ী)
- “مُمِيت” হলো إِمَاتَة (ইমাতাহ) নামক ক্রিয়ার “اسم الفاعل” (কারক নাম)।
- ক্রিয়ার মূল ধাতু: “أماتَ يُمِيتُ إِمَاتَةً” — অর্থাৎ মৃত্যু ঘটানো, নিঃশেষ করা, জীবনের সমাপ্তি ঘটানো।
- “ইয়া” (يَا) যোগ হলে তা ডাকে পরিণত হয়: হে মৃত্যু দানকারী!
অর্থাৎ, “ইয়া মুমিতু” — আল্লাহর সেই গুণের প্রতি আহ্বান, যিনি মৃত্যু প্রদান করেন, যিনি জীবন সমাপ্ত করেন এবং যিনি মৃত্যুর মাধ্যমে জীবনের পরীক্ষাকে পূর্ণতা দেন।
ইসলামিক পরিপ্রেক্ষিত
ইসলামে আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে এই নামও রয়েছে। যেমন একটি সংবাদমাধ্যম বলেছে —
“আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْمُمِيْتُ) ‘আল-মুমিতু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো।” Jagonews24+1
এই নামের জিকির বা মননে থাকার মাধ্যমে বিশ্বাসীর জীবনে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, মৃত্যু-সচেতনতা ও আল্লাহর প্রতি ভরসা বৃদ্ধি পায়।
ইয়া মুমিতু শব্দটি কী কুরআন হাদিসে কোথাও সরাসরি এসেছে?
“يَا مُمِيتُ” (ইয়া মুমিতু) — অর্থাৎ “হে মৃত্যু দানকারী!” — এই শব্দটি আল্লাহর ৯৯ নামের (أسماء الله الحسنى) মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত, তবে এটি কুরআনে সরাসরি “يَا مُمِيتُ” আকারে উল্লেখিত হয়নি।
তবে, এর মূল ধাতু (root word) — مَوْت (mawt), أمات (amaata), يُمِيتُ (yumītu) — কুরআনে বহুবার এসেছে।
📖 যেমন —
اللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ
“আল্লাহ জীবন দেন ও মৃত্যু দেন।”
— সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৬, সূরা হাজ্জ ২২:৬৬, সূরা রূম ৩০:৪০ ইত্যাদি।
এখানে يُمِيتُ (yumītu) অর্থাৎ “তিনি মৃত্যু দান করেন” — এই ক্রিয়াপদ থেকেই “مُمِيت” শব্দটি এসেছে, যার অর্থ “যিনি মৃত্যু ঘটান”।
সুতরাং,
- “ইয়া মুমিতু” কুরআনের কোনো আয়াতের হুবহু শব্দ নয়,
- তবে এর অর্থ ও মূল শব্দ (يُمِيتُ) কুরআনে বহুবার এসেছে,
- আর এই কারণেই আল-মুমিত (ٱلْمُمِيتُ)-কে আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর (Asmaul Husna) মধ্যে গণ্য করা হয়।
🔸 সারাংশ:
➡️ “ইয়া মুমিতু” — সরাসরি কুরআনে নেই।
➡️ কিন্তু এর অর্থমূলক ভিত্তি কুরআনের শব্দ “يُمِيتُ” থেকে নেওয়া।
➡️ তাই এটি আল্লাহর একটি প্রমাণিত গুণনাম — কুরআন ও হাদিসে “মৃত্যু দানকারী” হিসেবে আল্লাহকে বর্ণনা করা হয়েছে।

🌿 আল-মুমিতু: আল্লাহর ৯৯ নামের একটি গুণবাচক নাম
আল্লাহ তাআলার ৯৯টি সুন্দর নামের মধ্যে “আল-মুমিত” অন্যতম।
এ নামটির দ্বারা আল্লাহর একটি বিশেষ ক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায় — জীবন ও মৃত্যুর একচ্ছত্র মালিকানা।
🔹 অর্থ: “আল-মুমিত” মানে — যিনি জীবন নেন, যিনি মৃত্যুর মাধ্যমে সৃষ্টিকে ফিরিয়ে নেন।
🔹 তাফসিরকারদের ব্যাখ্যা:
ইমাম ইবনু কাসীর (রহ.) বলেন —
“আল-মুমিতু অর্থ তিনি, যিনি সকল জীবিত বস্তুর মৃত্যু ঘটান তাঁর ইচ্ছা ও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী।”
ইমাম আল-গাযালি (রহ.) বলেছেন —
“আল-মুমিতু সেই সত্তা, যিনি জীবনকে শেষ করেন — তা শরীরের মৃত্যু হোক বা আত্মার মৃত্যু হোক, যেমন পাপ ও কুফর আত্মার মৃত্যু ঘটায়।”
🔹 আধ্যাত্মিক অর্থে: এই নামটি শুধু মৃত্যুর ধারণা দেয় না, বরং জীবনের সীমাবদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেয়।
একজন মুমিন যখন “ইয়া মুমিতু” পাঠ করে, সে আসলে আল্লাহর হাতে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিণতির দায়িত্ব অর্পণ করে দেয়।
📖 কুরআনে মৃত্যু ও ‘আল-মুমিতু’ ধারণা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বহুবার জীবনের শুরু ও শেষের কথা বলেছেন। যদিও “আল-মুমিত” নামটি সরাসরি কুরআনে উল্লেখিত নয়, এর অর্থবোধক অনেক আয়াত রয়েছে, যা আল্লাহর মৃত্যুদানকারী ক্ষমতাকে প্রকাশ করে।
🔹 ১️⃣ সূরা আল-মুলক (৬৭:২):
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন— তোমাদের মধ্যে কে উত্তম কর্ম করে।”
এ আয়াতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলছেন, মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং আল্লাহর ইচ্ছাকৃত সৃষ্টি — এক পরীক্ষা।
🔹 ২️⃣ সূরা আল-বাকারা (২:২৫৮):
اللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ
“আল্লাহই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান।”
এই আয়াতেই “ইউহই ও ইয়ুমিত” — জীবনের ও মৃত্যুর দুই চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর।
🔹 ৩️⃣ সূরা আন-নাজম (৫৩:৪৪):
وَأَنَّهُ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
অর্থ: তিনিই মৃত্যু ঘটান এবং তিনিই জীবন দান করেন।”
এই আয়াতেই “আল-মুমিতু” নামের মর্ম নিহিত — আল্লাহর কোনো কাজে কারো অংশীদার নেই; মৃত্যুর সময়, স্থান, কারণ, ও মুহূর্ত সবই তাঁর নির্ধারিত।
🔹 দার্শনিক শিক্ষা:
- মৃত্যু মানে ধ্বংস নয়; বরং এক নতুন অস্তিত্বে প্রবেশ।
- “আল-মুমিত” নামটি মানুষের অহং ও আত্মনির্ভরতার সীমা স্মরণ করায়।
- এই নামের মাধ্যমে মানুষ জানে, কেউই অমর নয় — কেবল আল্লাহ ব্যতীত।
ইয়া মুমিতু এর ফজিলত
অনেক ইসলামিক চ্যানেল, ব্লগ ও ভিডিওতে “ইয়া মুমিতু” পাঠ বা জিকিরের কিছু আমল ও ফজিলতের কথা বলা হয়েছে — যদিও এসব নির্ভরযোগ্য হাদিস-সূত্রে সুনির্দিষ্ট নয়, তাই বিশ্বাসের আগে বিবেচনায় রাখা ভালো।
ইয়া মুমিতু” — আল্লাহর ৯৯ নামের একটি গুণবাচক নাম “আল-মুমিত” (ٱلْمُمِيتُ)-এর আহ্বান। এই নামের জিকিরের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর হাতে নিজের জীবন-মৃত্যুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিণতি অর্পণ করে। যদিও এই নামের আমল ও ফজিলত নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সহিহ হাদীস নেই, তথাপি ইসলামি আলেম ও সুফি-পরম্পরায় এর অনেক আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
🕊️ ১. প্রচলিত ফজিলত (প্রথাগত ইসলামী আমল ও ওয়াজিফা )
বিভিন্ন ইসলামি সূত্র ও ওয়াজিফা গ্রন্থে “ইয়া মুমিতু” পাঠের কিছু ফজিলত এভাবে উল্লেখ পাওয়া যায় —
🔹 ১️। আত্মনিয়ন্ত্রণে সহায়ক:
যদি কেউ নিজের নফস, রাগ, বা প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণে দুর্বল হয়, তাকে রাতে ঘুমানোর আগে বুকের ওপর হাত রেখে “ইয়া মুমিতু” পাঠ করতে বলা হয়। এতে আত্মসংযম বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ শক্তি জাগ্রত হয় বলে বলা হয়।
সূত্র: ইসলামিক ওয়াজিফা ও আল্লাহর নামসমূহ বিষয়ক প্রচলিত ইসলামি বই ও ওয়েবসাইটসমূহ।
🔹 ২️। মৃত্যুসচেতনতা জাগায়: এই নামের জিকির মানুষকে মৃত্যু ও আখিরাতের কথা স্মরণ করায়। এতে দুনিয়াবি অহংকার কমে, পাপ থেকে দূরে থাকার তাগিদ সৃষ্টি হয়।
🔹 ৩️। ভয় ও উদ্বেগ প্রশমিত করে:যারা মৃত্যুভয়, অজানা আশঙ্কা বা অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগে ভোগেন — তাঁদের জন্য “ইয়া মুমিতু” পাঠ একটি মনশান্তির আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
🔹 ৪️। বদনজর ও কালো জাদুর প্রতিকারে: কিছু ওয়াজিফা-সংক্রান্ত সূত্রে বলা হয়েছে, যদি কেউ সন্দেহ করেন যে তাঁর ওপর কালো জাদু বা অপদেবতার প্রভাব পড়েছে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যায় (যেমন ৩৩ বার বা ১০০ বার) “ইয়া মুমিতু” পাঠ করলে তা দূর হয়।
➡️ তবে এগুলো প্রমাণিত হাদীস দ্বারা নয়, বরং আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বা তাবিজি ওয়াজিফার অংশ, তাই এর গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
বিশ্লেষণমূলক (শরীয়ত ও তাফসিরের আলোকে)
ইসলামের মূল দৃষ্টিতে “আস্মাউল হুসনা” (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ) পাঠ করা একটি ইবাদত। কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا”
“আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম নামসমূহ; সুতরাং তাঁকে সেসব নাম দিয়ে আহ্বান করো।”
(সূরা আল-আরাফ, ৭:১৮০)
অতএব, “ইয়া মুমিতু” পাঠ করা মূলত একটি বৈধ ও বরকতময় জিকির। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা, সময় বা ফলাফল নির্ধারণ করে বলা (“এতবার পড়লে এই হবে”) — এটি প্রমাণিত নয়। একজন মুসলিম যখন “ইয়া মুমিতু” পাঠ করে, তার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত — আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, মৃত্যুর স্মরণ ও নফসের নিয়ন্ত্রণ।
● আরোও কিছু ফজিলত
- বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না এবং শারীয়তের বিধি-বিধান ঠিকমতো পালন করতে অপারগ হয়, তাহলে রাতে ঘুমানোর আগে বুকের ওপর হাত রেখে “আল-মুমিতু” (অর্থাৎ “ইয়া মুমিতু”) পাঠ করলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পায়। Jagonews24
- আবার ভিডিওতে বলা হয়েছে, “৩৩ বার”, “৭ বার”, “১০০ বার” ইত্যাদি নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করলে বিশেষ ফল পাওয়া যেতে পারে। যেমন একটি ভিডিও বলছে: “ইয়া মুমিতু ৩৩ বার পড়লে কি হয়।” YouTube+1
- অন্য ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, “ইয়া মুমিতু পড়ে ঘুমিয়ে গেলে ৫টি স্বপ্ন দেখলে বুঝবেন কালো জাদু করা হয়েছে।” YouTube+1
● আমল পদ্ধতি (যে তথ্যগুলো প্রচলিত, তবে ইসলামিক স্কলারদের পরামর্শ গ্রহণ করা ভালো)
- ওয়াজিফা হিসেবে বলা হয়েছে — ওয়ূদের পর কোনো শান্ত জায়গায় বসে মনোযোগ সহকারে এই নামটি এমনভাবে পাঠ করা যা হৃদয়ে আল্লাহর দিকে মনোযোগ নিয়ে যায়। YouTube+1
- ঘুমানোর পূর্বে বুকের উপরে হাত রেখে পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। Jagonews24
কেন এই নাম গুরুত্বপূর্ণ?
● মৃত্যু-সচেতনতা বাড়ায়
এই নামটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় — জীবনের নিয়ন্ত্রণ শুধুই আল্লাহর হাতে, মৃত্যু ও জীবনের সিদ্ধান্তও তাঁর ইচ্ছায়। এতে জীবনের অস্থায়ীতা, টেকসই নয় এমন বিশ্বের সচেতনতা আসে।
● আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও উত্তরদায়িত্ব তৈরি করে
যেমন উপরের সংবাদে বলা হয়েছে — যারা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না, তারা এই নামের জিকিরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণপ্রবণতা আনতে পারেন। Jagonews24
আচরণ ও মনোবল শৃঙ্খলিত করা সহজ হয় এমন জিকিরের মাধ্যমে।
● আল্লাহর প্রতি ভরসা ও মনোবল বাড়ায়
মৃত্যু ও জীবনের নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে 있다는 উপলব্ধি ভীতি ও হতাশা কমিয়ে দেয়, আশাবাজি ও ঈমানদার মনোবল বাড়ায়।
সচেতনতা ও সতর্কতা
যদিও প্রচলিতভাবে এ নামের সঙ্গে নানা আমল ও ফজিলত বলা হয়েছে, তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
- সব আমল-ফজিলত-দাওয়া-জিকির ইসলামিক স্কলারদের গ্রহণযোগ্য হাদিস বা কোরআন-সূত্রে নেই। অর্থাৎ “ইয়া মুমিতু পাঠ করলে X ফল হবে” এই ধরনের দাবিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্ত্রীয় প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
- আমল করলেও মূল কথা হলো — পবিত্র নামের পাঠের সঙ্গে হৃদয়ের খাঁটি মনোভাব, সঠিক নিয়তে জিকির ও আমল।
- জিকির বা দোয়ায় পূর্ণ নির্ভরতা না দিয়ে, দৈনন্দিন ইবাদত (সালাত, দান, মনোসংযোগ) ও নেক আমলও গুরুত্বপূর্ণ।
- মুসলিম জীবনের মূল ভিত্তি হলো তওবা, সালাত, কোরআন-তালিম ও কর্ম। এক-একটিমাত্র আমল নিয়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়া উত্তম নয়।
আমাদের জীবনে প্রয়োগের কিছু উপায়
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একটু চুপচাপ বসে মন শান্ত করে “ইয়া মুমিতু” নামটি পাঠ করতে পারেন — একাধিকবার, যেমন ৩৩ বা ১০০বার; তবে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী।
- ঘুমানোর আগে বুকের উপরে হাত রেখে মনোযোগ সহকারে “আল-মুমিতু” স্মরণ করা যেতে পারে — যদি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান।
- মৃত্যু ও জীবনের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মনযোগ বাড়াতে — এই নামটি পাঠের সময় আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভরসা ভাবুন।
- শুধু নামটি পড়লেই হবে না — পড়ার পর ভাল কাজের প্রতিজ্ঞা করুন, ঘাটতি সুধারার ইচ্ছা জাগান।
🌺 কীভাবে ‘ইয়া মুমিতু’ পাঠ করতে হয় — সঠিক আমল পদ্ধতি
নিম্নে ইসলামী দৃষ্টিতে পরিমিত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিটি উল্লেখ করা হলো —
🌤️ ১️⃣ আমলের পূর্বে নিয়ত ও প্রস্তুতি
- প্রথমে পরিষ্কার অবস্থায় থাকো (অজু থাকা উত্তম)।
- হৃদয়ে নিয়ত করো — “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর নাম ‘ইয়া মুমিতু’ পাঠ করছি।”
- শান্ত ও নির্জন পরিবেশে বসো, যেখানে মন একাগ্র রাখা সম্ভব।
🌙 ২️। আমল করার পদ্ধতি
🕋 (ক) দৈনন্দিন জিকির হিসেবে:
- ফজরের বা এশার নামাজের পর শান্তভাবে ৩৩ বা ১০০ বার “يَا مُـمِيتُ” পাঠ করতে পারো।
- প্রতিবার পাঠের সময় মৃত্যুর বাস্তবতা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার চিন্তা রাখো।
🌙 (খ) ঘুমানোর পূর্বে বিশেষ আমল হিসেবে:
- রাতে ঘুমানোর আগে বিছানায় বসে বুকের ওপর ডান হাত রেখে বলো —
“يَا مُـمِيتُ” (ইয়া মুমিতু) - ৩৩ বার বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বারবার পাঠ করো।
- তারপর দোয়া করো:
“হে মৃত্যু দানকারী, তুমি আমার নফসকে পাপ থেকে রক্ষা করো, এবং মৃত্যুর সময় ঈমানের ওপর আমার জীবন শেষ করো।”
৩️ । আমলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মনোভাব
- শুধু মুখে পড়াই যথেষ্ট নয় — হৃদয়ে গভীরভাবে ভাবো: একদিন আমাকে মরতে হবে, তাই আমি আজই নিজেকে সংশোধন করব।
- জিকিরের সময় অহংকার, ভয় ও অস্থিরতা পরিহার করে শান্তভাবে পাঠ করো।
- আমল শেষে আল্লাহর প্রশংসা করো (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার)।
⚠️ সতর্কতা ও পরামর্শ
- নির্দিষ্ট সংখ্যায় ফলের গ্যারান্টি দেওয়া বা অলৌকিক প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করা উচিত নয়।
- এটি কোনো “জাদু দূর করার তাবিজ” নয়; বরং একটি আত্মিক অনুশীলন ও ঈমান দৃঢ় করার জিকির।
- শরীয়ত অনুযায়ী সব জিকিরই বরকতপূর্ণ, তবে তা হাদীসসমর্থিত ও নিয়তপূর্ণ হলে তবেই ফলপ্রসূ হয়।
💫 সারসংক্ষেপ
“ইয়া মুমিতু” পাঠ মানে কেবল মৃত্যু স্মরণ নয়, বরং জীবনের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্মরণ।
এই জিকির একজন মুমিনকে বিনয়ী, আত্মনিয়ন্ত্রিত ও আখিরাতমুখী করে তোলে।
উপসংহার
“ইয়া মুমিতু” বা “আল-মুমিতু” নামটি একদিকে আমাদের মৃত্যুর অনিত্যতা স্মরণ করায়, অন্যদিকে জীবনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া থাকার অনুভূতিকে দূর করে। যদিও এর আমল ও ফজিলত নিয়ে প্রচলিতভাবে বহু কথা বলা হয়, তবুও islamic দৃষ্টিকোণ থেকে মূল কথা হলো নিয়ত, মনোযোগ, আমল ও বাস্তব জীবনের নেক কাজ। এই নামের জিকির আমাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, মৃত্যুসচেতনতা ও আল্লাহর প্রতি ভরসা বেগবান করতে সহায়ক হতে পারে।
আমার উদ্দেশ্য হলো আপনাকে এই নামটির সংজ্ঞা, প্রেক্ষাপট ও প্রয়োগ-দৃষ্টিকোণ থেকে মাথায় আনিয়ে দেওয়া। কিন্তু যেকোনো আমল করার আগে উচিত হলো বিশ্লেষণ করা, স্কলারদের পরামর্শ নিতে ও শারীয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্য দেখানো।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তার স্মরণ, জিকির ও নেক আমলে অবিচল থাকতে তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরো পড়ুন:

