মিলাদ কিয়াম । বাংলা ছন্দ । শের । জায়েজ কি না? দলিল ও বিস্তারিত

সম্মানিত মুফতি সাহেব, আমাদের এলাকায় মিলাদ কিয়াম করার প্রচলন রয়েছে। যার মধ্যে
সকলে মিলে – ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লিয়ালা সায়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলে সায়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ’। কিয়ামের কাসিদা – ‘ইয়া নবি ছালাম আলাইকা, ইয়া রাসুল সালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব ছালাম আলাইকা, ছালাওয়াতুল্লাহ আলাইকা’।

নবিজির দরবারে ফরিয়াদ-
‘ইয়া রাসুল্লাহ ইয়া হাবিব আল্লাহ
ইয়া রাসুল্লাহ ইয়া বাবিব আল্লাহ
সালাতুন ইয়া রাসুলাল্লাহ আলাইকুম
ছালামুন ইয়া হাবিবাল্লাহ আলাইকুম’

শাহাদাতে কারবালা-
‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা সায়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ
ওয়া আলা আলে সায়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ’।
এই ছন্দ শের বা দুরুদগুলো পাঠ করা হয়।

কোরআন ও সুন্নাহ কি মিলাদ, কিয়াম ও এই দুরুদগুলো পাঠকে সমর্থন করে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালিহিন কি মিলাদ কিয়াম ও এই পন্থায় দুরুদ পাঠ করতেন?
কোরআন ও সুন্নাহের আলোকে মিলাদ কিয়াম ও উল্লিখিত দুরুদগুলো সম্মিলিতভাবে পাঠের হুকুম কী? এবং অনেকে বলে থাকেন, যে ইমাম মিলাদ কিয়াম করে না তার পেছনে সালাত শুদ্ধ হবে না। এ কথাটি শরিয়তে গ্রহণযোগ্য কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

الجواب باسم ملهم الصواب

মিলাদ কিয়াম কি জায়েজ?

আমাদের দেশে মিলাদ শব্দ দ্বারা সাধারণত তিনটি বিষয় পরিচিত।

প্রথমটি: ঈদে মিলাদুন্নাবি, যা রবিউল আওয়াল মাসের বারো তারিখে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার সাথে পালন করা হয়।

দ্বিতীয়টি: বসেবসে মিলাদ করা। যেখানে জামাতবদ্ধ হয়ে উচ্চকন্ঠে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম‘র উপর দোয়া দুরুদ পাঠ করা হয়।

তৃতীয়টি: মিলাদের সাথে কিয়াম। যেখানে জামাতবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সম্মিলিত কন্ঠে দুরুদ পাঠ করা হয়। এই তিনটি বিষয়কেই ইবাদাত মনে করে সওয়াবের নিয়তে পালন করা হয়। কিন্তু ইবাদাতের মূলনীতি হলো শরিয়ত যে আমলকে যে পন্থায় করার কথা বলেছে সেই আমলকে সেই পন্থায় করাটাই হলো ইবাতাদ। যে আমলকে বা আমলের যে পন্থাকে শরিয়ত ইবাদাত হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি তা কখনই ইবাদাত হিসাবে গণ্য হয় না। বরং তা বিদাতে পরিণত হয়ে যায়। যা হারাম ও মহাপাপ।

এই নিরিখে আমরা মিলাদ ও কিয়ামের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কোরআন সুন্নায় কোথাও মিলাদ কিয়ামের উল্লিখিত তিনটি প্রকারের কোনোটিকেই ইবাদাত হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালিহিন কেউই তা পালন করেননি। তাই স্বার্ভিকভাবে মিলাদ কিয়ামের প্রচলিত সকল প্রকার বিদাত। যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

মিলাদ কিয়ামের দলিল

বিদাত হওয়া কারণ ও দালায়িল

একঃ মিলাদ কিয়াম রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবাযুগ ও খায়রুল কুরুন পরবর্তী সময়ে অস্তিত্ত¡লাভ করে। যার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন

وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة

‘তোমরা নব-আবিষ্কৃত বিষয়াবলি থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকো। কেননা প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদয়াত। আর প্রত্যেক বিদয়াতই ভ্রান্তি।’ (আবু দাউদ-৪৬০৭, সহিহ)

দুইঃ মিলাদ কিয়ামের উপর শরিয়তের দিক নির্দেশনা নেই। যার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد

‘যে এমন কোনো আমল করবে যার উপর আমাদের দিক নির্দেশনা নেই তা পরিত্যাজ্য।’ (সহিহ মুসলিম,১৭১৮)

তিনঃ দোয়া দুরুদের শরয়ি পন্থা হলো নিচুস্বরে একাএকা পড়া। যেভাবে আমরা সালাতে ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন…’ দুরুদ পড়ে থাকি। এই পন্থায়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম সকল তাবিয়ি ও তাবয়ি তাবিয়ি সারা জীবন দোয়া দুরুর ও জিকির আজকার করেছেন।

তাই জামাতবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতকন্ঠে দুরুদ পড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম সকল তাবিয়ি ও তাবয়ি তাবিয়ির সারা জীবনের কর্ম পরিপন্থি ও শরিয়তের মূল নিদের্শনা পরির্বতনকারী একটি কাজ। যার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إني فرطكم على الحوض من مر علي شرب ومن شرب لم يظمأ أبدا ليردن علي أقوام أعرفهم ويعرفونني ثم يحال بيني وبينهم فأقول إنهم مني فيقال إنك لا تدري ما أحدثوا بعدك فأقول سحقا سحقا لمن غير بعدي

‘(কিয়ামতের সময়) যে আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে আমি তাকে হাওজ থেকে পান করাবো। যে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষার্ত হবে না। এমন সময় আমার সামন দিয়ে একটি সম্প্রদায় আসবে। আমি তাদের চিনতে পারবো তারোও আমাকে চিনবে। অতপর আমার ও তাদের মধ্যে পর্দা এসে যাবে। তখন আমি বলবো তারা তো আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। সে সময় বলা হবে, তুমি তো জানো না তোমার পরে তারা কি নতুন কর্ম আবিষ্কার করেছিলো। তখন আমি বলবো, দূর হও দূর হও! যারা আমার পরে আমার শরিয়তে পরিবর্তন করেছো।’ (সহিহ বুখারি : ৬২১২)

মিলাদ কিয়ামের বিপক্ষে আরো কিছু দলিল

চারঃ খায়বার যুদ্ধের সময় সাহাবায়ে কেরাম উচ্চকণ্ঠে তাসবিহ তাহলিল করতে লাগলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

اربعوا على أنفسكم فإنكم لا تدعون أصم ولا غائبا تدعون سميعا بصيرا قريبا

‘তোমরা নিজেদের উপর রহম করো। কেননা তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। তোমরা সর্বশ্রæতা সর্বদ্রষ্টা অধিক নিকটবর্তী এক সত্তাকে ডাকছো।’ (সহিহ বুখারি,৬৯৫২)

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছনে তা গ্রহণ করতে আর যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে। যেমন তিনি আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا

‘রাসুল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো। আর যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো।’ (সুরা হাশর – ৭)

তাই মিলাদ কিয়াম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম‘র নির্দেশ ও কর্ম এবং সালাফে সালিহিনের আমল পরিপন্থি একটি বিদয়াত ও হারাম কাজ

মিলাদ পড়ার নিয়ম

সঠিকভাবে মিলাদ কিয়াম বা দুরুদ পাঠ ও তার শরয়ি হুকুম

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরুদ পাঠের প্রতি শরিয়াহ আমাদের খুবই গুরুত্বের সাথে নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন,

إن الله وملائكته يصلون على النبي يا أيها الذين آمنوا صلوا عليه وسلموا تسليما

‘নিশ্চয় আল্লাহ ও ফেরেস্তাগণ নবির জন্য দুরুদ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর উপর দুরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও। (সুরা আল আহযাব ৫৬)

রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة فأكثروا على من الصلاة فيه فإن صلاتكم معروضة على . قال قالوا يا رسول الله وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت يقولون بليت. فقال ্র إن الله عز وجل حرم على الأرض أجساد الأنبياء

‘তোমাদের দিন সমূহের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুয়ার দিন। তাই এই দিনে আমার উপর অধিক হারে দুরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। (বর্ণনাকারী বলেন) সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, হে রাসুলাল্লাহ! আমাদের দুরুদ আপনার কাছে কীভাবে পেশ করা হবে? যখন আপনি মাটিতে মিশে যাবেন? তখন রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা নবিদের শরীরকে মাটির উপর হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ – ১০৪৯)

আর দুরুদ পাঠের ক্ষেত্রে উত্তম হলো এমন দুরুদ পাঠ করা যা হাদিসে রয়েছে যেমন দুরুদে ইবরাহিম ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন … ইত্যাদি। কিন্তু যদি এমন দুুরুদ পাঠ করা হয় যা হাদিসে নেই বা যে দুরুদের মধ্যে সরাসরি রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্বোধন বাচক শব্দ রয়েছে, তাহলে তাও জায়েযে হবে।

তবে সর্বপ্রকার দুরুদ পাঠ অবশ্যই হতে হবে রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দরুদ পাঠের স্থানে উপস্থিত (হাযির নাযির) রয়েছেন এমন বিশ্বাস থেকে মুক্ত। সাথে সাথে তা হতে হবে একাএকা নিন্মস্বরে। যদি জামাতবদ্ধ হয়ে এই বিশ্বাস নিয়ে দরুদ পাঠ করা হয় যে, রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুরুদ পাঠের স্থানে উপস্থিত রয়েছেন। তাহলে তা হবে বিদয়াত ও শিরকি কাজ।

সুতরাং প্রশ্নে যেহেতু এই দুরুদগুলো সম্মিলিতভাবে পাঠ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এই কাজ বিদয়াত হিসাবে বিবেচিত হবে। আর পাঠকারীদের মনে যদি এই বিশ্বাসও থাকে যে, রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুরুদ পাঠের স্থানে উপস্থিত (হাযির নাযির) রয়েছেন তাহলে তা শিরক হবে।

উল্লেখিত পন্থায় দুরুদ পাঠ বিদয়াত ও শিরিক হওয়ার কারণ ও দালায়িল

একঃ জ্ঞানগতদিক থেকে সকল স্থানে হাযির থাকা বা সকল অদৃশ্যের জ্ঞান রাখা কেবল আল্লাহ তা’য়ালার বৈশিষ্ঠ্য (সিফাত)। তাই এই বৈশিষ্ঠ্য রাসুুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘র সাথে যুক্ত করা অবশ্যই শিরক। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

قل لا يعلم من في السماوات والأرض الغيب إلا الله وما يشعرون أيان يبعثون

‘হে নবি! আপনি বলে দিন আকাশ মণ্ডলি ও পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্য থেকে আল্লাহ ছাড়া কেউই অদৃশ্যের খবর জানে না। তারা এটাও জানে না কখন তারা পুনর জীবন পাবে। (সুরা-নামল, ৬৫)

অপর আয়াতে বলেন,

قل لا أقول لكم عندي خزآئن الله ولا أعلم الغيب ولا أقول لكم إني ملك إن أتبع إلا ما يوحى إلي

‘হে নবি, আপনি বলে দিন আমি তোমাদের বলছি না আমার কাছে আল্লাহর গুপ্তভাণ্ডার রয়েছে এবং এটাও বলছি না আমি অদৃশ্যের খবর জানি। আর এটাও বলছি না আমি ফেরেস্তা। আমি তো কেবল আমার উপর প্রত্যাবর্তীত ওহির অনুসরণ করি। (সুরা আল আনআম,৫০)

রবি বিনতে মুয়াওয়াজ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

دخل علي النبي صلى الله عليه و سلم غداة بني علي فجلس على فراشي كمجلسك مني وجويريات يضربن بالدف يندبن من قتل من آبائهن يوم بدر حتى قالت جارية وفينا نبي يعلم ما في غد فقال النبي صلى الله عليه و سلم ( لا تقولي هكذا وقولي ما كنت تقولين )

আমার বিবাহের দিন প্রভাতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে এসে আমার বিছানায় বসলেন। যেভাবে তুমি আমার কাছে বসে আছো। সে সময় কিছু বালিকা তবলা বাজিয়ে বদর যুদ্ধে শহিদ হওয়া তাদের বাপ দাদাদের গুণকীর্তন করে সংগীত গাচ্ছিলো। এক পর্যায়ে একজন বালিকা বললো, আমাদের মধ্যে এমন একজন নবি রয়েছেন যিনি আগামীতে কী ঘটবে তা জানেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন তুমি এটা বলো না। তবে আগে যা বলছিলে তা বলো। (সহিহ বুখারি,৩৭৭৯)

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,

ومن حدثك أنه يعلم ما في غد فقد كذب

‘আর যে তোমাকে বলবে তিনি (নবি Ñসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামÑ) আগামীর খবর জানেন নিশ্চয় সে মিথ্যা বলবে।’ (সহিহ বুখারি-৪৫৭৪)

এরকম আরো অনেক আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয় রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অদৃশ্যে কী ঘটছে তা জানেন না। এটা জানেন কেবল আল্লাহ তা’য়ালা। তাই অদৃশ্যের খবর জানার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাথে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শরিক করা অবশ্যই শিরক। আর যদি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে হাযির নাযির মনে না করে কেবল সম্মিতভাবে এই দুরুদগুলো পড়া হয় তাহলে তা শিরক হবে না বটে কিন্তু অবশ্যই বিদয়াত হবে। যার দলিল পূর্বে আলোচনা হয়েছে।

যে ইমাম মিলাদ কিয়াম করেন না তার পেছনে সালাতের হুকুম

যারা বলেন যে ইমাম মিলাদ কিয়াম করেন না তার পেছেনে সালাত শুদ্ধ নয় তাদের কথা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও মনগড়া। শরিয়ত তাদের এই কথাকে চরমভাবে প্রত্যাখান করে। বরং হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী যে ইমাম মিলাদ কিয়াম করেন না তিনিই ইমামতির অধিক উপযুক্ত। কেননা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله فإن كانوا فى القراءة سواء فأعلمهم بالسنة

আল্লাহ কিতাব যে অধিক সুন্দর সুদ্ধভাবে পড়েত পারে সে মানুষের ইমামতি করবে। যদি তারা পড়ার ক্ষেত্রে সমান হয় তাহলে যে অধিক সুন্নতের জ্ঞান রাখে সেই ইমামতি করবে। (সহিহ মুসলিম,১৫৬৪)

আর বলা বাহুল্য যে ইমাম মিলাদ কিয়াম করেন না তিনি সুন্নত সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখার করণেই তা পরিহার করে চলছেন। কেননা সুন্নাহ অনুযায়ী মিলাদ কিয়াম বিদয়াত। যা থেকে বেঁচে থাকা সকল মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

الله أعلم بالصواب

Leave a Comment